মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৬১২ তারিখ: ১৫/০৯/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: এই নিকাহ কি পরিপূর্ণ সহিহ হয়েছে?

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। হুজুর, আমার একটি নিকাহর মাসআলা নিয়ে শরিয়ত অনুযায়ী সঠিক ফতোয়া/সমাধান জানতে চাই। দয়া করে পুরো ঘটনাটি পড়ে বলবেন, আমাদের নিকাহ হানাফি শরিয়ত অনুযায়ী সহিহ হয়েছে কি না। একজন ছেলে ও একজন মেয়ের নিকাহ হয়েছে। মেয়ের বাড়ি এক জায়গায় এবং নিকাহ যেখানে হয়েছে সেটি অন্য জায়গায়। মেয়ে নিজে নিজের ইচ্ছায়, কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি ছাড়া, নিজের সম্মতিতে নিকাহর স্থানে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে কাজী সাহেব উপস্থিত ছিলেন। কাজী প্রথমে মেয়েকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন—সে ছেলেকে পছন্দ করে কি না, তাদের সম্পর্ক কতদিনের, পরিবার এখনো পুরোপুরি রাজি না থাকলে কোনো সমস্যা হবে কি না, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে কেউ তাকে জোর করে এনেছে কি না। মেয়ে স্পষ্টভাবে বলে যে কেউ তাকে জোর করেনি; সে নিজের ইচ্ছায় ও সম্মতিতে এসেছে এবং সে ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি। এরপর ছেলে সেখানে আসে। কাজী ছেলেকেও বিয়েতে তার সম্মতি আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন এবং ছেলেও সম্মতি দেয়। এরপর কাজী খুতবা পড়েন। খুতবার পর কাজী সবার সামনে ছেলে ও মেয়ের নাম, পিতার নাম ইত্যাদি উল্লেখ করে বিয়ের কথা বলেন। এক লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। এরপর কাজী বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর ছেলে স্পষ্টভাবে “কবুল” বলে—এবং জোরে তিনবার “কবুল” বলে। উপস্থিত সবাই তা শুনতে পায়। এরপর মোনাজাত করা হয় এবং নিকাহ শেষ হয়। নিকাহর সময় উপস্থিত ছিলেন কাজী সাহেব, ছেলে ও মেয়ে এবং ছেলের পরিবারের কয়েকজন সদস্য। সেখানে ছেলের দুই বোন ছিলেন, তাদের বয়স আনুমানিক ২০–২৫ বছর। ছেলের মা ছিলেন এবং ছেলের দুই খালা ছিলেন। মোট প্রায় ৪–৫ জন মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলমান এবং সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন এবং তারা ইজাব-কবুল শুনেছেন। এবং ওপাশে আরো অনেক লোক ছিলেন তারা শুনছে কিনা জানিনা কিন্তু ওখানে কাজী সহ চার পাঁচ জন উপস্থিত ছিল তারা স্পষ্ট শুনতে পারছে আমার মূল প্রশ্ন: বিয়েটা কি ১০০% সহি সপন্ন হইছে

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি মেয়ের পক্ষ থেকে কাজীকে বিবাহ সম্পন্ন করার দায়িত্ব প্রদান করা হয় তাহলে তাদের বিবাহটা শরীয়তসম্মত হয়েছে। কেননা বিবাহে সাক্ষীর উপযুক্ত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ দুইজন মহিলা উপস্থিত থাকা জরুরি।আর বিবাহের সময় যেহেতু কাজী সাহেব এবং ছেলের পরিবারের ৫-৬ জন মহিলা উপস্থিত ছিল তাই পর্যাপ্ত সাক্ষী থাকার কারণে বিবাহ শরিয়তসম্মত হয়েছে।
 في تبيين الحقائق (٢/٤٥٢) قال رحمه الله: عند حرين أوحر وحرتين بالغین مسلمین و لو فاستين أو محدودين۞  وفي فتح القدير (٣/١٩٠ ) ولا ينعقد نكاح المسلمين إلا بحضور شاهدین حرين عاقلين بالغين مسلمين رجلين أو رجل وإمرأتين عدولا كانوا أو غير عدول۞  وفي رد المحتار (٤/٩٤) والأصل أن كل من صلح أن يكون وليا فيه بولاية نفسه صلح أن يكون شاهدا فيه۞  وفي البحر الرائق (٣/١٥٥) قوله : عند حرين أوحر وحرتين عاقلين بالغين مسلمين ولوفاسقين أو محدودين۞  وفي كتاب النوازل (٨/١٤١) سوال: ----- نکاح پڑھانے والا اسی نکاح کاجس کو وہ پڑھا رہا ہے ۔ گواہ بن سکتا ہے یا نہیں ؟الجواب : مسئولہ صورت میں لڑکے کے والد اور نکاح پڑھانے والا گواہ قرارپائیں گے۞انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ