আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: বাবা মাকে না জানিয়ে বিবাহ হয়েছে। এই বিয়ে জায়েজ হয়েছে কিনা?
প্রশ্নের বিবরণ:
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
শায়েখ, প্রথমত একটি ছেলে ও একটি মেয়ে—দুজনই মুসলিম। ছেলেটি মেয়েটির তুলনায় বেশি দ্বীনদার। দুজনের কেউই আরব বংশোদ্ভূত নয়। সামাজিক অবস্থানও প্রায় একই—উচ্চ মধ্যবিত্ত। যদিও মেয়েটির বাবার আয় ছেলেটির পরিবারের চেয়ে বেশি হতে পারে, তবুও সামাজিক মর্যাদা মোটামুটি সমপর্যায়ের। ছেলেটি বর্তমানে পুরোপুরি স্বাবলম্বী না হলেও, বিয়ের পর স্ত্রীকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ। তার পরিবারেরও সেই সামর্থ্য রয়েছে।
এমতাবস্থায় তারা বিয়ে করে ফেলেছে। মেয়েটি ছেলেটিকে নিজের উকিল নিযুক্ত করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, এবং ছেলেটি তা দুইজন সাক্ষীর সামনে ৫ লাখ টাকা কাবিন নির্ধারণ করে গ্রহণ করেছে। তবে তাদের কোনো পরিবারই এ বিষয়ে জানে না।
দ্বিতীয়ত, উভয় পরিবারেরই এ ধরনের বিয়ের প্রতি আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, বিয়ে অবশ্যই পরিবারকে জানিয়ে করতে হবে। তারা যদি জানতে পারে যে এভাবে গোপনে বিয়ে হয়েছে, তাহলে মেয়ের পরিবার তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে।
এমতাবস্থায়, ভবিষ্যতে যখন ছেলে তার স্ত্রীর ভরণ-পোষণের পূর্ণ সামর্থ্য অর্জন করবে, বা পরিবার যখন বিয়ের জন্য যোগ্য মনে করবে, তখন কি উভয় পরিবারকে জানিয়ে নতুনভাবে আবার বিয়ে করা সম্ভব(প্রথম বিয়ের কথা না জানিয়ে,পরিবারের কাছে এইটাই হবে প্রথম বিয়ে)? নাকি তা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত হবে? এ ক্ষেত্রে কোনো গুনাহ হবে কি?
এখন যদি তারা বিয়ে না করে অপেক্ষা করত, তাহলে আরও ৪–৫ বছর অপেক্ষা করতে হতো, যা তাদের হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করত। তাই পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে। পরবর্তীতে ৫–৬ বছর পর পরিবারকে আগের বিয়ের বিষয়টি না জানিয়ে নতুনভাবে কাজী, ইমাম ও ওয়ালির উপস্থিতিতে বিয়ে করা কি জায়েজ হবে?
দয়া করে এ বিষয়ে একটু বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ