মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৬৩৩ তারিখ: ১৯/০৯/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: কোর্টে সাক্ষীসহ বিবাহ এবং পরবর্তীতে তালাক উচ্চারণের শরীঈ বিধান

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। হুজুর, একটি জরুরি ও জটিল বিষয়ের শরীয়ত মোতাবেক সমাধান চেয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। আজ থেকে কিছুদিন পূর্বে আমার পরিচিত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে পারিবারিকভাবে না জানিয়ে নিজেরা কোর্টে গিয়ে দুই-তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে কাবিননামা ও আদালতের হলফনামায় স্বাক্ষর করার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু উল্লেখ্য যে, সেখানে বর বা কনে— কেউই মৌখিকভাবে কোনো প্রকার ইজাব ও কবুল (অর্থাৎ মুখে স্পষ্ট শব্দে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া ও তা গ্রহণ করা) করেনি, পুরো প্রক্রিয়াটি সাক্ষীদের সামনে শুধু কাগজে লেখালেখি,নিজেদের স্বাক্ষর ও সাক্ষীদের সইয়ের মাধ্যমেই শেষ হয় এবং এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে তাদের যৌথ জীবনে বনিবনা না হওয়ায় এবং নিজেদের মধ্যে তীব্র ঝগড়াঝাটি সৃষ্টি হওয়ার কারণে ছেলেটি রাগের মাথায় মেয়েটিকে বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করে, যা গণনায় তিন বারেরও বেশি হয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিবার থেকে এখন ঘরোয়া পরিবেশে শরীয়তের নিয়ম মেনে, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলের মাধ্যমে নতুন করে তাদের বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; কিন্তু ছেলে ও মেয়ে উভয়েই পূর্বে বলা তালাকের কথাগুলো নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও শঙ্কিত রয়েছে। এই ঘটনার আলোকে প্রশ্নসমূহ: ১) মৌখিকভাবে কোনো প্রকার ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু কাবিননামা ও হলফনামায় স্বাক্ষর করার মাধ্যমে সাক্ষীদের সামনে তাদের যে প্রথম বিবাহটি হয়েছিল, শরীয়তের দৃষ্টিতে কি তা আদৌ সম্পন্ন বা সহীহ হয়েছিল? ২) যদি প্রথম বিবাহটি সহীহ না হয়ে থাকে, তবে পরবর্তীতে ঝগড়ার সময় ছেলেটি যে তিন বারের বেশি তালাক উচ্চারণ করেছে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কি সেই তালাক কার্যকর হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কি কোনো চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটেছে? ৩) বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েটিকে অন্য কোথাও হালালা বা অন্য কোথাও বিবাহ দেওয়া ব্যতিরেকেই, তারা নিজেরা কি এখন নতুন করে মোহরানা ধার্য করে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলের মাধ্যমে পুনরায় বৈধভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে? (উল্লেখ্য,তারা দুইজনেই হানাফি মাযহাব অনুসরণ করেন)দয়া করে কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিস্তারিত সমাধান দিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয় এবং বাস্তবেই যদি প্রথম বিবাহের সময় মৌখিকভাবে ইজাব কবুল না হয়ে থাকে তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের প্রথম বিবাহটি সহীহ হয়নি। তাই এই বিবাহের অধিনে ছেলেটির দেওয়া তিন তালাকও কার্যকর হয়নি। কেননা, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য বিবাহ সহীহ হওয়াটা শর্ত। তবে এখন যদি তারা উভয়ে সন্তুষ্টিক্রমে আবার বিবাহ করতে চায় তাহলে নতুনভাবে মোহর ধার্য করে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব কবুল করার মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে হলালা করার কোন প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, প্রথম বিবাহটি যেহেতু সহীহ হয়নি তাই ঐ বিবাহপরবর্তী ঘর সংসারও বৈধ হয়নি। বরং এভাবে একত্রে অবস্থান করাটা মারাত্মক গুনাহ হয়েছে। এর জন্য উভয়কে খাঁটি দিলে তওবা করতে হবে।
 في البحر الرائق(٣/١٤٨اشرفيه/ ٣/٨٣رشيديه) و قيد المصنف إنعقاده باللفظ لانه لا ينعقد بالكتابة من الحاضرين فلو كتب تزوجتك فكتبت قبلت لم ينعقد۞  و في الفتاوى الهندية (١/٣٣٥) و لا ينعقد بالكتابة من الحاضرين، فلو كتب تزوجتك ، فكتبت، قبلت، لم ينعقد هكذا في (النهر الفائق)۞  و في رد المحتار(٤/٧٣) (و لا بكتابة حاضر) فلو كتب تزوجتك فكتبت قبلت لم ينعقد۞  و في فتاوی دار العلوم کراچی(٣/١٨٢) لہذا صورت مسئولہ میں جب کہ گواہوں کے سامنے ايجاب و قبول نہیں ہوا تو صرف شرائط نکاح لکھ دینے اور ان پر دستخط کر دینے سے نکاح منعقد نہیں ہوا لڑکی کا نکاح کسی دوسرے مرد سے کیا جاسکتا ہے۞  و فیہ ایضا(٣/١٨٤) فقہاء کرام نے صراحت کی ہے کہ جب مرد و عورت ایک مجلس میں موجود ہوں، ان میں سے ایک لکھے کہ"میں نے تجھ سے نکاح کیا" اور دوسرا لکھے کہ"میں نے یہ نکاح قبول کیا" اس سے نکاح منعقد نہیں ہوتا، جب تک کہ دونوں زبان سے ایجاب و قبول نہ کریں۞انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ