মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৬৫০ তারিখ: ২১/০৯/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: জাদু করা বিষয়ক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমার আম্মা আমার স্ত্রীকে বিয়ের পর থেকে সন্দেহ করে সে নাকি জাদু অথবা কুফরি নিয়ে বাসায় ঢুকেছে এবং আম্মা ও আমাকে জাদু করে রেখেছে। আমি এমন সন্দেহর জায়গা কখনো খুঁজে পাইনি আমার সাধারণ চলাফেরার মধ্যে।এ নিয়ে আম্মা অনেক কবিরাজ অথবা হুজুরের কাছে গিয়েছিল ( আমি কখনো যাইনি) । হুজুর অথবা কবিরাজারা সন্দেহের বীজ আমার ওয়াইফের উপর চাপিয়ে দেয়।(প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে) এবং আম্মা হুজুর অথবা কবিরাজদের এসব কথা সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করেন।এই বিষয়টা নিয়ে পরিবারের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকে। জাদু সত্য হলেও কে যাদু করেছে সেটা গায়েবের বিষয় যেটি শুধুমাত্র আল্লাহ জানেন(আমার স্বল্প জ্ঞানে এটুকুই আমি বিশ্বাস করি) । এখন আমার প্রশ্ন দুইটি :১ কে যাদু করেছে এটা কি হুজুর বা কবিরাজরা জানতে পারেন। ২ কি উদ্দেশ্যে জাদু করা হয়েছে সেটা কি জানতে পারেন ( যেমন মা ছেলের মধ্যে বিচ্ছেদ করে রাখা হয়েছে এমনটা কি হুজুর বা কবিরাজরা বলতে পারেন)।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

: কে যাদু করেছে এবং কি উদ্দেশ্যে যাদু করা হয়েছে তা সুনিশ্চিতভাবে জানা কোন কবিরাজের পক্ষে সম্ভব নয়। কবিরাজরা মূলত অনুমাননির্ভর কথা বলে থাকে। সুতরাং পর্যাপ্ত সাক্ষী ছাড়া বা যে যাদু করেছে তার স্বীকারোক্তি ছাড়া কারো উপর এ ধরনের অভিযোগ করা বা কাউকে দোষারোপ করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। তাই এ ধরনের সন্দেহজনক বা অনুমাননির্ভর কথা ও কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কেননা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে—”হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা গুনাহ।(সূরা হুজুরাত,আয়াত-১২)
 قوله تعالى في سورة الحجرات ( رقم الآية-١٢) يا ايها الذين آمنوا اجتنبوا كثيرا من الظن إن بعض الظن إثم  وأخرج الإمام أبو داؤد في سننه (رقم الحديث -٣٩٠٤) عن أبي هريره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من أتى كاهنا.. فصدقه بما يقول... فقد برئ مما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم  وفي رد المحتار (١/١٣٥) الكهانة: وهي تعاطي الخبر عن الكائنات في المستقبل وإدعاء معرفة الأسرار إلى قوله ومنهم أنه يعرف الأمور بمقدمات يستدل بها على موافقها من كلام من يساله أوحى له أو فعله وهذا يخصونه باسم العراف كاالمدعي معرفة المسروق ونحوه  وفي كتاب النوازل (١٦/٣٢٨) عمل وغیرہ کے ذریعہ غیب کی خبریں جاننے کا شرعا کوئی اعتبار نہیں ہے اس پر یقین کرنا یا اس کی بنیاد پر کسی کو مجرم قرار دینا ہرگز درست تو نہیں ہے یہ سب چیزی محض تخمینی ہوتی ہیں،اس لیے ایسی وہمی باتوں پر یقین کرنے اور عمل کرنے کی شریعت میں گنجائش نہیں ہے...انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ