মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৬৫১ তারিখ: ২২/০৯/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: আধুনিক সমাজে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে ফেতনা

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম,হুজুর, আমাদের বর্তমানের ফেৎনার সমাজে প্রাপ্তবয়স্ক অনেক ছেলে মেয়ে একাকীতে কোন গার্ডেন অথবা হোটেলে সময় কাটাতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেয় । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুরুষ অথবা দু চারজন মানুষের উপস্থিতি সেখানে থাকে, তারা ছেলের কাছে জানতে চায়,উনি কি আপনার স্ত্রী? ছেলে জবাব দেয়,হা,তিনি আমার স্ত্রী! আবার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করা হয়, উনি কি আপনার স্বামী? সে স্বীকার করে যে,হ্যাঁ উনি আমার স্বামী। অথবা, এমন ঘটনাও পাওয়া যায় যে একটা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে কোথাও একান্ত থাকার জন্য বাসা ভাড়া নিতে যায়। অথবা সেখানে গিয়ে তারা বিবাহের ফলস ডকুমেন্টস প্রদান করেন। এবং উপস্থিত লোকদের সামনে তারা স্বীকারও করে যে,তারা স্বামী স্ত্রী। অথবা ছেলের পক্ষ থেকে,"উনি আমার স্ত্রী" এবং মেয়ের পক্ষ থেকে,"উনি আমার স্বামী" এমন বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি রাসুল (সা:) এর একটা হাদিস থেকে যেটা জেনেছি যে, বিবাহ,তালাক এবং দাস আজাদ যেকোনোভাবেই প্রকাশ করা হোক না কেন এটা কার্যকর হয়ে যায়। এমন অবস্থায় হুজুরের কাছে প্রশ্ন: ১) ওই স্বামীস্ত্রী হিসাবে স্বীকারোক্তি,যারা ছেলে মেয়ে স্বীকার করছে এবং তাদের সামনে দুই বা দুইএর অধিক সাক্ষীও থাকছে, এখন তাদের এই স্বামী স্ত্রীর হিসাবে নিজেদের স্বীকার করার দ্‌বারা কি তাদের ইজাব কবুল হবে? খ) যদি বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে তো ওই মেয়ের বিবাহ অন্য কোন পুরুষের সাথে হওয়া সম্ভব কি? গ) বর্তমান আধুনিক সমাজে এমন অনেকেই বিশেষ করে ভার্সিটিতে পড়ুয়া বা উচ্চাভিলাসী অনেক ছেলেমেয়ে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে একসাথে থাকছে (লিভ টুগেদার)।এরপর কিছু সময় বাদে তাদের উভয়েরই হয়ত অন্যত্র বিবাহ হচ্ছে।অন্যত্র যাদের সাথে বিবাহ হচ্ছে তাদের সাথে কি সেই নতুন বিবাহ গুলো সহীহ হচ্ছে?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

বিবাহ হল, বৈধভাবে দুইজন ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে জীবন যাপনের জন্য সম্পাদিত চুক্তি। আর প্রশ্নে বর্ণিত সাক্ষীর সামনে ছেলে-মেয়ের বক্তব্য হলো স্বীকারোক্তি। দুটি ভিন্ন জিনিস। কেননা স্বীকারোক্তির মাঝে চুক্তি বা আকদ পাওয়া যায় না। তাই তাদের স্বীকারোক্তি ইজাব কবুল বা বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে না। পরবর্তীতে অন্য ছেলের সঙ্গে তাদের বিবাহ বৈধ হবে। তবে এভাবে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক করা সম্পূর্ণ ব্যভিচার হিসেবে গণ্য যা মারাত্মক কবীরা গুনাহ। তাই এ ধরনের গুনাহ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, প্রশ্নে যে হাদীসের কথা বলা হয়েছে সেখানে তো সাক্ষীর কথাও উল্লেখ নাই। অথচ সাক্ষী ছাড়া বিবাহ সহীহ হয় না। তাহলে বুঝা যাচ্ছে হাদীসে বর্ণিত বিষয়গুলো তার রোকন ও শর্তের সাথে প্রযোজ্য, যা অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
 في البحر الرائق (٣/١٤٩) فلو قال بحضرة الشهود: هي امراتي وأنا زوجها وقالت: هو زوجي وأنا امراته لم ينعقد النكاح لان الاقرار إظهار لما هو ثابت وليس بانشاء  وفي المحيط البرهاني (٤/١٠) اذا قال لامراة: هذه امراتي وقالت المراة: هذا زوجي وكان ذلك بمحضرة من الشهود لا يكون نكاحا  وفي الفتاوى التاتارخانية (٤/١٤) اذا قال لامراة هذه امراتي وقالت المراة هذا زوجي وكان ذلك بمحضرة من الشهود لا يكون نكاحا  وفي فتح القدير (٣/١٨٥) رجل وامراة أقرا بالنكاح بحضرة الشهود فقال:هي امرأتي وأنا زوجهاوقالت هو زوجي وأنا امراته وقال اللآخر:نعم لا ينعقد النكاح بينهما لان الإقرار إظهار لما هو ثابت هو فرع سبق الثبوت  وفي خلاصة الفتاوي (٢/٤) وفي الفتاوى: رجل وامراة أقرا بالنكاح بين يدي الشهود فقال بالفارسية مأزن شوئيم لا ينعقد النكاح بينهما  وفي الدر المختار (٤/٨٤ طبع سعيد) ولا ينعقد بالاقرار على المختار) خلاصة كقوله هي امراتي لان الاقرار اظهار لما هو ثابت وليس بانشاء  وفي الدر المختار(٩/٦٠٧- سعيد) وفي الاشباه الخلوة بالاجنبية حرام  وفي دار العلوم زكريا (٣/٥٥٠) ان دونوں کا شادی سے پہلے تنہائی میں ایکجا ہونا حرم ہے  وفي امداد السائلين (٣/١٨٢) جواب۔ایجاب و قبول نکاح کے لیے رکن ہے اسی طرح گواہوں کے سامنے ہونا بھی شرط ہے ان کے بغیر نکاح منعقد نہیں ہوتی۔ انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ