মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৬৫৫ তারিখ: ০৪/১০/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: ফতোয়া জানার জন্য

প্রশ্নের বিবরণ:

আমার বাবা বেঁচে থাকাকালীন আমার ভাইকে পাঁচ শতকের একটা জমি লিখে দেন এবং আমার বড় বোনকে তিন শতকের একটা জমি লিখে দেন। এখন আমার বাবা মারা গেছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার ভাই পাঁচ শতক বাড়ির অংশের মধ্যে আমার মাকে আড়াই শতক লিখে দেন এবং আমার মায়ের নামে তিন শতকের আরেকটা বাড়ি আছে। এখন আমার ভাই মারা গেছে। আমার ভাই মারা যাওয়ার পর আমার মা এখন আমাকে অর্থাৎ আমি যেহেতু আমার মায়ের ছোট মেয়ে আমাকে কোন কিছু দেওয়া হয় নাই। সে আমাকে আড়াই শতকের বাড়ির অংশ লিখে দিতে চাচ্ছে এবং যেটা আমার মায়ের নামে আরো যে তিন শতকের বাড়ি আছে সেখানে দেড় শতক দেড় শতক করে আমাদের দুই বোনকে লিখে দিতে যাচ্ছে। এখন আমার মৃত ভাইয়ের একটা ছেলে আছে এক বছরের বাচ্চা। এখন তাকে কি এখান থেকে কোন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে যদি এভাবে আমার মা লিখে দিতে চায়? ইসলামী আইন কি বলে?উল্লেখ এখানে আমার মা তার মৃত ছেলের আড়াই শতকের মধ্যে যে ছয় ভাগের এক ভাগ জমি পেত সেটা তার নাতির নামে ছেড়ে দিবে। তাহলে কি তার কোন হক বঞ্চিত হবে? এটা একটু জানাবেন। গ্রামে আমার বাবার 12 শতক সম্পত্তি আছে। সেখানে তো আমার মা, আমি আমার বড় বোন এবং আমার ভাই অংশীদার আছে। এখন এই 12 শতক সম্পত্তির মধ্যে থেকে আমাদের দুই বোনের অংশ এবং আমার মা অংশ যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, আমার ভাতিজার নামে এক বছরের বাচ্চার জন্য, তাহলে কি সমতা ঠিক হবে?যেহেতু গ্রামের বাড়ির সম্পত্তির দাম কম সেজন্য।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার মা যদি কারো চাপ প্রয়োগ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেচ্ছায় আপনাদের এভাবে জমি দিতে চান, এবং জমির মূল্য ও পজিশনের কারণে আপনার ভাতিজা ক্ষতিগ্রস্থ না হন এবং তাকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে তা জায়েয হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
 في السراجى في الميراث(٢٢) الاقرب فالاقرب يرجحون بقرب الدرجة اعنى اولهم بالميراث جزء الميت اى البنون ثم بنوهم و ان سفلوا۞  و في الفتاوى التاتارخانية(٢٠/٢٦٣/٣٣٢١٤) اولى العصبات بالميراث الابن ثم ابن الابن و ان سفل۞  و فيه ايضا(٢٠/٢٢٤/٣٣٠٩٤) و ان كان للميت بنت و ابن ابن فللبنت النصف و الباقى لابن الابن۞  و في الاشباه و النظائر(٣/٥٣) لو قال الوارث: تركت حقي لم يبطل حقه إذا الملك لا يبطل بالترك۞  و في الفتاوى الهندية ( ٤/٤٠٠) لا يثبت الملك للموهوب له الا بالقبض۞  و في رد المحتار(٨/٤٩٣) و تتم الهبة بالقبض الكامل۞  و فيه ايضا(٨/٥٠١) لا بأس بتفضيل بعض الاولاد في المحبة لانها عمل القلب، و كذا في العطايا ان لم يقصد به الاضرار، و ان قصده فسوا بينهم يعطى البنت كالابن عند الثانى و عليه الفتوى، و لو وهب في صحته كل المال للولد جاز و اثم۞  و في الفتاوى الهندية(٤/٣٩٥) او كان صغيرا او مجنونا، او لا يكون ما لكاللموهوب لا يصح۞  و في کتاب النوازل(١٨/١١٩) زندگی ميں وارثت کی تقسیم نہیں ہوتی، مسئولہ صورت میں خلیل احمد صاحب آپنی مرضی سے جس کو جتنا چاہے دے سکتے ہیں۞  و فيہ ایضا(١٨/١٦٢) مرحوم کی پہلی بیوی کی اولاد میں سے جن لڑکیوں نے وارثت میں حصہ لینے سے انکار کر دیا ہے، ان کے انکار اور ترک میراث کی وجہ سے ان کا حق باطل نہ ہوگا، بلکہ بدستور ان کا حق ترکہ میں باقی رہے گا، البتہ آپنا حصہ لینے اور اس پر قبضہ کرنے کے بعد ان کو اختیار ہے کہ وہ جس کو چاہیں آپنے حصہ کا مالک بنا دیں، یا آپنے تمام بھائی بہنوں پر تقسیم کردیں۞  و في فتاوی محمودیہ(٣٠/٨٧) محض نہ لینے سے وارث کی ملک مال مورث سے زائل نہيں ہوتی لہذا اگر ہندہ و غیرہ نے باب اللہ کو آپنا حصہ ہبہ کر کے باقاعدہ قبضہ کرا دیا تھا تب تو ہندہ کے ورثہ کو باب اللہ کے ورثہ سے اس کے لینے کا حق حاصل نہیں اور اگر باقاعدہ ہبہ نہیں کیا تو پھر حق حاصل ہے۞  و فيہ ایضا(٣٠/٢٥٤) زید کو پورا اختیار ہے کہ آپنی جائیداد پوتوں کو دیدے یا کسی اور کو دے، لیکن اتنا خیال رہے کہ مستحق کو محروم کرنے کا قصد نہ ہو کہ یہ ظلم اور معصیت ہے۞انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ